“আল্লাহ” আরবি ভাষায় মুসলিমদের উপাস্যের নাম

ধর্ম

আল্লাহ الله‎‎ একটি আরবি শব্দ। এটি ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহে সৃষ্টিকর্তা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। বাংলা ভাষায়, শব্দটি সাধারণত ইসলাম ধর্মে স্রষ্টাকে বুঝায়। “আল্লাহ” শব্দটি “আল” ও “ইলাহ” এর সংক্ষিপ্ত রূপের সমন্বয়ে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। এটি ভাষাগতভাবে হিব্রু ও আরামীয় ভাষায় ঈশ্বরের প্রতিশব্দ “এল” (এলোহিম) ও “এলাহ” এর সাথে সম্পর্কিত।

ইসলাম-পূর্ব সময় থেকে আরবের বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা “আল্লাহ” শব্দটি ব্যবহার করে আসছে। সুনির্দিষ্টভাবে, “স্রষ্টা” বুঝাতে মুসলিমগণ (আরব ও অনারব উভয়) ও আরব খ্রিস্টানগণ ব্যবহার এই শব্দটি করে থাকে। বাহাই, মাল্টাবাসী, মিজরাহী ইহুদি এবং শিখ সম্প্রদায়ও “আল্লাহ” শব্দটি ব্যবহার করে থাকে।

“আল্লাহ” শব্দটির ব্যুৎপত্তি নিয়ে ধ্রুপদী আরব ভাষাতত্ত্ববিদগণ ব্যাপক আলোচনা করেছেন। বাসরা বিদ্যালয়ের ব্যাকরণবিদগণ এই শব্দটিকে “স্বতঃস্ফূর্তভাবে” গঠিত শব্দ বা “লাহ” (ক্রিয়ামূল “লিহ” থেকে আগত) এর একটি নির্দিষ্ট রূপ হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যরা ধারণা করেন শব্দটি সিরিয়াক বা হিব্রু থেকে এসেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ভাষাতত্ত্ববিদ আরবি ভাষার নির্দিষ্ট পদাশ্রিত নির্দেশক “আল” ও “ইলাহ” এই দুটি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপের সমন্বয়ে “আল্লাহ” শব্দটি উদ্ভূত বলে মনে করেন। আধুনিক পণ্ডিতদের অধিকাংশই এই তত্ত্বটি সমর্থন করেন এবং সিরিয়াক বা হিব্রু থেকে আগত হওয়ার ধারণাটি সন্দেহের সাথে দেখেন।

“আল্লাহ” শব্দটির সমজাতীয় (একই মূল বিশিষ্ট) শব্দ হিব্রু ও আরামীয় ভাষাসহ অন্যান্য সেমিটিক ভাষায় বিদ্যমান। শব্দটির আরামীয় রূপ হলো “এলাহ” (אלה), কিন্তু নির্দিষ্ট রূপ “এলাহা” (אלהא)। এটি প্রাচীন আরামীয় ভাষায় “এলাহা” (ܐܠܗܐ) ও সিরিয়াক ভাষায় “আলাহা” (ܐܲܠܵܗܵܐ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা আসিরীয় খ্রিস্টানগণ ব্যবহার করে। কিন্তু উভয় ভাষাতেই এর অর্থ “স্রষ্টা”। প্রাচীন হিব্রু ভাষায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বহুবচন “এলোহিম” (אלהים‬) এবং কদাচিৎ একবচন “এলোয়া” (אלוהּ‬) ব্যবহৃত হয়েছে। গুরু গ্রন্থ সাহিব অর্থাৎ শিখদের ধর্মগ্রন্থে “আল্লাহ” (ਅਲਹੁ) শব্দটি ৩৭ বারের চেয়ে বেশি বার ব্যবহৃত হয়েছে।

“আল্লাহ” শব্দের আঞ্চলিক রূপগুলো পৌত্তলিক ও খ্রিস্টান উভয়ের ইসলাম-পূর্ব শিলালিপিতে পাওয়া যায়। ইসলাম-পূর্ব বহুঈশ্বরবাদী ধর্মগুলোতে আল্লাহ সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে। ইসলামি পণ্ডিত ইবনে কাসিরের মতে, আরব পৌত্তলিকরা আল্লাহকে অদৃশ্য ঈশ্বর এবং মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে বিবেচনা করতো। পৌত্তলিকরা বিশ্বাস করতো, যেসব মানুষ বা প্রাণিদের জীবনে সৌভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছিল, সেইসব মানুষ ও প্রাণিদের উপাসনা করলে, তা তাদেরকে ঈশ্বরের আরও কাছে নিয়ে আসবে। ইসলামে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করা (শির্‌ক) সর্বশ্রেষ্ঠ পাপ হিসেবে গণ্য হয়। কিছু লেখক পরামর্শ দিয়েছেন, বহুঈশ্বরবাদী আরবরা সৃষ্টিকর্তা বা তাদের সর্বোচ্চ দেবতাকে বুঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করতো। কিন্তু একক এবং অদ্বিতীয় ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে নয়। বরং পৃথিবী-সৃষ্টিকারী এবং বৃষ্টি-দানকারী সত্তা হিসেবে। আল্লাহর প্রকৃত স্বরূপ তাদের ধারণায় খুব পরিষ্কার ছিল না। তাদের ধারণা ছিলো যে, আল্লাহর আরো সঙ্গী-সাথী আছে, যাদেরকে তারা অধীনস্থ দেবতা হিসেবে পূজা করতো। তারা আরো ধারণা করতো যে, আল্লাহর সঙ্গে জ্বিনজাতির আত্মীয়তা-ধরনের কোনো সম্পর্ক আছে তারা আল্লাহর পুত্র বলেও সাব্যস্থ করেছিলো  এবং তৎকালীন আঞ্চলিক দেবতা লা’ত, উজ্জা, মানাতকে তারা আল্লাহর কন্যা সাব্যস্থ করেছিলো । খুব সম্ভবতঃ, মক্কার আরবরা আল্লাহকে ফেরেশতা বা স্বর্গীয় দূত হিসেবে ধারণা করতো। যার কারণে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় তারা আল্লাহ ডাকতো। এমনকি নিজেদের নামকরণেও তারা আব্দুল্লাহ(অর্থাৎ, আল্লাহর বান্দা বা গোলাম) শব্দটি ব্যবহার করতো। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মুহাম্মাদের পিতার নাম ছিল ʿAbd-Allāh(عبدالله ) আব্দুল্লাহ’

ইসলামি ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, “আল্লাহ” হলো একমাত্র প্রশংসাযোগ্য ও সর্বশক্তিমান সত্তার প্রকৃত নাম এবং তার ইচ্ছা ও আদেশসমূহের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রদর্শন ইসলামি ধর্মবিশ্বাসের মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। “তিনিই একমাত্র উপাস্য, সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টা এবং মানবজাতির বিচারক।” “তিনি এক (ٱلْوَٰحِدُ), অদ্বিতীয় (ٱلْأَحَد), পরম করুণাময় ও সর্বশক্তিমান।” বিচার দিবস পর্যন্ত কোন মানুষের চোখ আল্লাহকে দেখতে পাবে না। ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনে আল্লাহ বাস্তব সত্তা, তার গুণাবলি ও বিভিন্ন নাম, তার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক ও আরও অনেক বিষয় বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল নন এবং খ্রীষ্টীয় ত্রিত্বের অংশ নন। আল্লাহর কোন পিতা-মাতা নেই এবং সন্তান নেই।

কুরআনের ১১২তম সূরা আল-ইখলাসে তাওহিদ অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে:

۝ বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়;
۝ আল্লাহ অমুখাপেক্ষী;
۝ তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি;
۝ এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

কুরআনের দীর্ঘতম ও ২য় সূরা আল-বাকারা-এর আয়াতুল কুরসিতে (২৫৫তম ও শক্তিশালী আয়াত) বর্ণিত হয়েছে:

۝ আল্লাহ! তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আকাশ ও ভূমিতে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তার অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু তা ব্যতীত – যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর আসন সমস্ত আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তার পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

মুসলিমগণ ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পিত কাজের ব্যাপারে আলোচনা করলে তার আগে বা পরে আরবি “ইনশাআল্লাহ” (আরবি: إِنْ شَاءَ ٱللَّٰهُ‎, অনুবাদ ‘যদি আল্লাহ চান’‎) বাক্যাংশটি ব্যবহার করেন। ইসলামি পরিভাষায়, যে কোন কাজ শুরু করার পূর্বে একজন মুসলিমের “বিসমিল্লাহ” (আরবি: بَسْمَلَة‎, অনুবাদ ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি)’‎) বলে শুরু করা উচিত, যাতে সেই কাজটি আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তাতে সাহায্য করেন। এগুলো ছাড়াও সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করার উপায় হিসেবে মুসলিমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত আল্লাহর প্রশংসামূলক আরও কিছু বাক্য হলো “সুবহানাল্লাহ” (আরবি: سُبْحَانَ ٱللَّٰهِ‎, অনুবাদ ‘সমস্ত পবিত্রতা আল্লাহর’‎), “আলহামদুলিল্লাহ” (আরবি: ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ‎, অনুবাদ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’‎), প্রথম কালেমা “লা~ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুহাম্মাদুর রছূলুল্ল-হ” (আরবি: لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ ٱللَّٰهِ‎‎, অনুবাদ ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তার প্রেরিত রাসূল’‎) এবং “আল্লাহু আকবার” (আরবি: ٱللَّٰهُ أَكْبَرُ‎, অনুবাদ ‘আল্লাহ সুমহান’‎)।

সুফি সাধকদের মধ্যে একটি বহুল-প্রচলিত সাধনা হলো আল্লাহর যিকর (আরবি: ذكر الله‎, অনুবাদ ‘আল্লাহর স্মরণ’‎) যেখানে সুফিরা নিজেদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে মনোযোগ সহকারে “আল্লাহ” শব্দ অথবা আল্লাহর কোনো গুণবাচক নাম একাধারে অজস্রবার পাঠ করেন।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, “আল-কুরআন জোরালোভাবে ঘোষণা করেছে, মুসলিমরা বিশ্বাস করে, এবং ঐতিহাসিকরা নিশ্চিত করেছেন যে, মুহাম্মাদ এবং তাঁর অনুসারীরা সেই একই উপাসনা করতেন, যার উপাসনা ইহুদিরা করতো (২৯:৪৬)। এবং কুরআনের আল্লাহ এবং ইব্রাহিমের আল্লাহ এক এবং অভিন্ন”।

ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে আল্লাহর কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:

  • আল্লাহর কোন অংশীদার নেই, কোন সমকক্ষ নেই এবং কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই;
  • তার কোন সন্তান বা স্ত্রী নেই এবং তিনি কারও সন্তান নন;
  • তার উপাসনা অথবা সহায়তা প্রার্থনার জন্যে কাউকে বা কিছুর মধ্যস্থতার প্রয়োজন নাই;
  • তার কাউকে উপাসনার প্রয়োজন হয় না;
  • তিনি সার্বভৌম অর্থাৎ কারো নিকট জবাবদিহি করেন না;
  • তিনি কোন ব্যক্তি বা জিনিসের উপর নির্ভরশীল নন, বরং সকলকিছু তার উপর নির্ভরশীল;
  • তিনি কারো সহায়তা ছাড়াই সবকিছু সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন;
  • কোনো কিছুই তার উপরে বা সঙ্গে তুলনীয় নয়;
  • বিদ্যমান কোনো কিছুই সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর পরাধীন নয়;
  • কেউ প্রতিরোধ করতে পারেন না, যা আল্লাহ প্রদান করে, আর কেউ প্রদান করতে পারেনা যা তিনি প্রতিরোধ করে;
  • শুধুমাত্র আল্লাহই কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে, এই ক্ষমতা অন্য কেউ রাখে না;
  • তার কোনও অভাব নেই, তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন;
  • নিদ্রা, তন্দ্রা ও ক্লান্তি আল্লাহকে স্পর্শ করে না;
  • তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান ও পবিত্র;
  • তার অনুরূপ কেউ নেই

আসিরীয় খ্রিস্টানদের ভাষায়, ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার জন্য আরামাইক শব্দ হলো ʼĔlāhā, বা en:Alaha। খ্রিস্টান এবং ইহুদিরা সহ আব্রাহামীয় সকল ধর্মের আরবি-ভাষী লোকই, ঈশ্বরকে বুঝাতে আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করে থাকে। বর্তমান যুগের আরবি-ভাষী খ্রিস্টানদের ব্যবহারের জন্য ঈশ্বরকে ইঙ্গিত করতে আল্লাহ ব্যতীত উপযোগী অন্য কোনো শব্দই নেই। (এমনকি আরবি-বংশোদ্ভূত মাল্টাবাসী, যাদের অধিকাংশই রোমান ক্যাথলিক, ঈশ্বরকে বুঝাতে Alla(আল্লা) শব্দ ব্যবহার করে)। তবে আরব খ্রিস্টানরা অনেক সময়ই তাদের ত্রিত্ববাদ অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা বুঝাতে Allāh al-ʾab (الله الأب) অর্থাৎ, পিতা ঈশ্বর, ঈসা বা জিসাসকে বুঝাতে Allāh al-ibn (الله الابن) অর্থাৎ, পুত্র ঈশ্বর, এবং জিবরাঈল বা গেব্রিলকে বুঝাতেAllāh ar-rūḥ al-quds (الله الروح القدس) অর্থাৎ,পবিত্র আত্মা কথাগুলো ব্যবহার করে। (খ্রিস্টান ধর্ম-বিশ্বাস অনুযায়ী ঈশ্বরের ধারণার বিস্তারিতের জন্য দেখুন খ্রিস্টান ধর্মে ঈশ্বরের ধারণা)।

লেখার সময় আরব খ্রিস্টানদের মধ্যে দুই ধরনের প্রচলন পাওয়া যায়, মুসলিমদের থেকে গৃহীত বিসমিল্লাহ এবং অষ্টম-শতক থেকে নিজেদের ত্রিত্ববাদই ধারণার বিসমিল্লাহ। মুসলিমদের থেকে গৃহীত বিসমিল্লাহর অর্থ করা হয়, আল্লাহর নামে, যিনি পরম দয়ালু এবং অতিশয় মেহেরবান। অপরপক্ষে, ত্রিত্ববাদই বিসমিল্লাহর অর্থ করা হয়, এক ঈশ্বরের নামে যিনি পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা। তবে সিরিয়ান, ল্যাটিন বা গ্রিক প্রার্থনার মধ্যে এক কথাটি যুক্ত করা হয় না। এই এক কথাটি যুক্ত করা হয় ত্রিত্ববাদের এক ঈশ্বর ধারণাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য এবং কিছুটা মুসলিমদের নিকট গ্রহণযোগ্য রূপ দেয়ার জন্য

কারো মতে, ইসলাম-পূর্ব আরব-এ কিছু কিছু আরব খ্রিস্টান সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আল্লাহর সম্মানে কাবায় যেত, তবে তৎকালীন কাবা ছিলো মূর্তি পূজারীদের প্রার্থনাস্থল।

যেহেতু আরবি এবং হিব্রু খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত সেমিটিক ভাষা, এটি বহুল প্রচলিত মতামত যে, আল্লাহ(আরবি শব্দমূল: ইলাহ) এবং বাইবেলে বর্ণিত ইলোহিম এর আদিশব্দ একই। ইহুদি ধর্মগ্রন্থে, ইলোহিম শব্দকে ঈশ্বরের (ইহুদি মতানুযায়ী যাকে ইয়াওহে বা জেহোবা বলা হয়) একটি বর্ণনামূলক নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আবার একই সাথে শব্দটিকে সময়ের বিবর্তনে এক সময়ে পৌত্তলিকদের দেবতাদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে।